Header Ads

ad728
  • Breaking News

    বগুড়ার পার্কে চাঞ্চল্যকর মিরাজ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩, চাকু ও রক্তমাখা জ্যাকেট উদ্ধার

    মোঃ নজরুল ইসলাম জাকিঃ পৌর পার্কের চাঞ্চল্যকর মিরাজ হত্যার ১২ ঘন্টার মধ্যে মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও ০৩ (তিন) জন অভিযুক্ত গ্রেফতারসহ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু ও রক্তমাখা জ্যাকেট উদ্ধার।

    গত ১৫/০২/২০২২ খ্রিঃ তারিখ সময় অনুমান ১৮.০০ ঘটিকার সময় বগুড়া জেলার সদর থানাধীন পৌর পার্কে মিরাজ নামের একজন যুবক খুন হয়। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক বগুড়া জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বিপিএম মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব আলী হায়দার চৌধুরী বিপিএম এর তত্তাবধানে অদ্য ১৬/০২/২০২২ খ্রিঃ বিভিন্ন সময়ে নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জনাব মোঃ শরাফত ইসলাম ও ডিবি বগুড়া’র ইনচার্জ মোঃ সাইহান ওলিউল্লাহ এর নেতৃত্বে বগুড়া ডিবির একটি চৌকস টিম বগুড়া জেলার সোনাতলা থানা ও সদর থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ০৩ (তিন) জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু ও ঘটনার সময় অভিযুক্ত (কথিত প্রেমিক) এর পরনে থাকা রক্তমাখা জ্যাকেট উদ্ধার করে।
    গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের নামঃ
    ১। আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু (কথিত প্রেমিক) (১৬), সাং- নওদা বগা বুড়িতলা, থানা- সোনাতলা, জেলা- বগুড়া।
    ২। মোঃ তারেক রহমান (১৮), পিতা- মোঃ মুন্নু মিয়া, সাং- নওদা বগা বুড়িতলা, থানা- সোনাতলা, জেলা- বগুড়া।
    ৩। মোঃ মিঠুন (২৮), পিতা- মোঃ আঃ কুদ্দুস, স্থায়ী সাং- চকদূর্গা, সদর, বগুড়া, বর্তমান সাং- রহমাননগর শিশু মঙ্গলের পাশে, থানা- সদর, জেলা- বগুড়া।
    উদ্ধারকৃত আলামতঃ
    ১। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু।
    ২। একটি রক্ত মাখা জ্যাকেট।
    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু (কথিত প্রেমিক) জানায় যে, ডিজিস্ট মিরাজের সহিত বগুড়া শহরের বাদুরতলা এলাকার এক মেয়ের সঙ্গে প্রায় এক বছরের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার কিছুদিন পূর্বে ওই একই মেয়ের সহিত ফেসবুকে পরিচয় হয় (কথিত প্রেমিক) এর এবং তাদের দুজনের সহিত মেয়েটি ম্যাসেঞ্জারে ম্যাসেজ আদান-প্রদানসহ কথাবার্তা হতে থাকে। মেয়েটির ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড ছিল ডিজিস্ট মিরাজের কাছে এবং সে মেয়েটির ফেসবুকে ঢুকে দেখতে পায় মেয়েটি (কথিত প্রেমিক) এর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পরছে। তখন ডিজিস্ট মিরাজ (কথিত প্রেমিক) এর বিষয়ে মেয়েটির কাছে জানতে চাইলে মেয়েটি জানায়, (কথিত প্রেমিক) মেয়েটিকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে ও প্রেমের জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। ঘটনাটি জানার পর থেকে ডিজিস্ট মিরাজ এবং (কথিত প্রেমিক) দু-জন দু-জনকে ফেসবুক ও মুঠোফোনে বারবার হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। ঘটনাটি মীমাংসার জন্য ডিজিস্ট মিরাজ (কথিত প্রেমিক) কে বগুড়া শহরস্ত পৌর পার্কে ডাকলে (কথিত প্রেমিক), সঙ্গীয় বন্ধু তারেককে বলে যে, মেয়েটি এবং ডিজিস্ট মিরাজের সহিত দেখা করতে শহরে যাব। তখন সে এবং তারেক শহরে এসে তারেকের বন্ধু শাকিল এবং শাকিলের সাথে থাকা বড় ভাই মিঠুন এর সাথে দেখা করে মেয়েটি এবং ডিজিস্ট মিরাজের সহিত দেখা করার কথা বলে। সেসময় শাকিল ব্যস্ত থাকায় তার বড় ভাই মিঠুন তাদের সাথে পৌর পার্কে যায়। (কথিত প্রেমিক), তারেক এবং মিঠুনসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছাইয়া দেখতে পায় মেয়েটি আসে নাই কিন্ত ডিজিস্ট মিরাজ এবং তার সঙ্গীয় বন্ধুরা উপস্থিত ছিল। দেখা হওয়ার এক পর্যায়ে উক্ত প্রেমের বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি, ধাকাধাক্কিসহ কিলঘুশি শুরু হইলে তাৎক্ষনিক তাহার সঙ্গীয় মিঠুনের নিকটে থাকা একটি চাকু বাহির করে ডিজিস্ট মিরাজসহ তার সঙ্গীদের এলোপাথারী স্টেপ করে সেখান থেকে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ডিজিস্ট মিরাজ এবং তার সঙ্গীয় নাজমুলকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বগুড়া’য় নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডিজিস্ট মিরাজকে মৃত ঘোষনা করেন এবং নাজমুলকে চিকিৎসা প্রদান করেন।
    এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হইয়াছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ আদালতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রেরণ করা হইবে।

    কোন মন্তব্য নেই

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728