অবহেলিত আড়ুয়া খেয়াঘাট
উপরোক্ত ১১ গ্রামের মানুষ বিলে-ক্ষেতে কৃষি কাজ করে মনের খোরাক ও সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে ছোটে খেয়া পারাপারের ঘাটের দিকে। দুপুর থেকেই যত বেলা গড়ায় ততই জমজমাট হতে থাকে , আর রাত ১০ টা অব্ধি চলে এ খেয়াঘাটের চা চক্রের বাজার। ছোট-বড়ো-বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সব পেশা শ্রেণির মানুষের মিলনমেলা- হওয়াতে খেয়াঘাটকে অত্র এলাকার মিলনায়তন । ধীরে ধীরে উন্নয়নের ছোয়া লাগায় এটি খেয়াঘাট থেকে বাজারে রূপান্তরিত হচ্ছে। ব্যবসায়ী বা ছোট খাটো বিনিয়োগকারীরা কেবলমাত্র বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে মাত্র। যাকে ঘিরে এতো আয়োজন এত জমজমাট এত ব্যবসা বানিজ্য সম্প্রসারণ সেই খেয়াঘাট এখন মৃতপ্রায়।
সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সকলের নাভিশ্বাস উঠিয়ে ছেড়েছে এই বাজারে। মানুষ এখন যেনো খেয়াঘাট ছাড়লে হাফ ছেড়ে বাচে। নদীর ওপারের লোকজন দুঃখে ও ক্ষোভে খেয়াঘাটে আসাই বাদ দিয়েছে। হাতে গোনা ভ্রাম্যমাণ পর্যটক ছাড়া স্থানীয় বাজার করা লোকজনের বড্ড অভাব। আগে যেখানে চা স্টল গুলিতে ছিল উপচেপড়া ভিড়, মানুষের ছিল সমাগম, সেখানে এখন প্রায়ই দু-একটি টি ষ্টল ছাড়া প্রাই ষ্টল বন্ধ পাওয়া যায়। সন্ধ্যা ৭ টার পরে কোনো দোকানপাটই খোলা থাকে না। অথচ দু বছর আগে ও যেখানে চিত্র ছিল ভিন্ন। কি হলো বিগত দু বছরে? মূলত খেয়াঘাটের মালিকানা ছিলো বরাবরই অত্র এলাকার গরীব ও নিরীহ মাঝিদের । কিন্তু ২০২০ সালে রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে উঠতি ও সম্ভাবনাময় এ বাজার এলাকার জনগনের হাতছাড়া হয়ে যায়। বিপত্তিটা ঘটে সেখান থেকেই। বড় বড় রাজনৈতিক যোদ্ধাদের খুশি করে এলাকা ও খেয়াঘাট বাগিয়ে নিয়ে ক্ষমতা দখলের পায়তারা করে কিছু পক্ষ। তাতে তারা বেশ সফল, যার বাস্তব প্রমান প্রানহীন এ নিথর খেয়াঘাটটি।
বিগত দু বছরে খেয়াঘাট মূলত ঘাট- মালিকের ঘাট বলেই বেশি পরিচিতি লাভ করেছে। ঘাটের মালিক মানে সে-ই সবকিছুর মালিক - এমন একটি ভাবের বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে ঘাট ইজারাদার বা ঘাট মালিকের কাছে। লোকজনকে মার-ধর থেকে শুরু করে হুমকি-ধামকি, অকথ্য ভাষা ব্যবহার সহ- অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, সাধারণ জনগণকে অপমান-অপদস্ত-লাঞ্ছিত করা নিত্যদিনের ঘটনায় রূপ নেয়। দু-বছর আগে ও যেখানে খেয়া ভাড়া ছিলো ৩ টাকা সেখানে এখন ক্ষেত্র বিশেষে ১০ টাকা। সরকারী ফেরিতে পার হলেও ঘাট মালিকের ভাড়া না দিয়ে পার হওয়ার উপায় নেই। সাথে লাঞ্চিত ও অপমানিত হবার আশংক্ষাতো রয়েছেই, সেখান থেকে তো সাধারণ জনগণ মুখ ফিরিয়ে নেবে এটাই স্বাভাবিক। অত্র খেয়াঘাটের পাশেই আছে ঐতিহ্যবাহী আড়ুয়া প্রাইমারি ও হাইস্কুল। ওপারের ছাত্র- ছাত্রী, শিক্ষক ও প্রচুর ,এপারে আসে প্রতিদিন। তারা বিগত দিনগুলোতে খেয়া পারাপার ফ্রী থাকলেও এ দু-বছর কিন্তু কমবেশি টাকা দিয়ে পার হতে হয়।
স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন বেশ কয়েকবার ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করলেও ফলাফল ছিল শূন্য। ২০২০ সালে যে আড়ুয়া ঘাটের সরকারী ইজারা মূল্য ছিলো ২ লক্ষ টাকা সেটা ২০২২ সালে এসে দাড়িয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা। যেখানে বিগত দু-বছরে আড়ুয়ায় আর একটি বারাকপুর, দিঘলিয়া, সেনহাটীর মতো বাজার হওয়ার কথা - সেখানে বাজার তো দুরের কথা সেখানকার মানুষ এখন সর্বদা থাকে আতংকে। বাজারে স্থানীয়রা ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে সাহস পাচ্ছে না।
কোন মন্তব্য নেই