স্রীকে রাস্তায় আটকিয়ে প্রান নাশের হুমকি আসামী স্বামীর
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- হবিগঞ্জে বানিয়াচংয়ে যৌতুকলোভী স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার স্ত্রী। যৌতুকলোভী স্বামী মোঃশওকত মিয়া (৪২)বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৪নং দক্ষিণ পশ্চিম ইউনিয়নের যাত্রাপাশা গ্রামের শমশের আলীর পুত্র।বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমল আদালত-৪ হবিগঞ্জে গত ৩০ মার্চ বাদী হয়ে ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবীর উল্লেখ করে মামলা করেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসূখা গ্রামের মোছাঃ তামান্না আক্তার নামে ওই গৃহবধূ। মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,২০১৫ সালের ২৮ আগষ্ট যাত্রাপাশা গ্রামের সমশের আলী মিয়ার পুত্র বিবাদী মোঃ শওকত মিয়ার সাথে পারিবারিকভাবে ইসলামি শরা-শরিয়ত মোতাবেক ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য্য করিয়া বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসূখা ইউনিয়নের ইছবপুর গ্রামের সুরপান আলীর কন্যা মোছাঃ তামান্না আক্তার। প্রায় বছর খানেক ভালোই চলছিলো তাদের সংসার।কিন্তু হঠাৎ করে বিপদগামী নারীদের সাথে চলাফেরা বেড়ে যায় শওকতের।বিষয়টি ওই গৃহবধূ প্রতিবাদ করলে তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।তারপর থেকে পরিবারের অন্যান্য লোকের সহযোগিতায় তামান্নার উপর একের পর এক অমানুষিক নির্যাতন করতে থাকে শওকত।সংসার টিকাতে স্বামীর আঘাত নিরবে সহ্য করতো ওই গৃহবধূ।ওই নির্যাতনের ফলে গৃহবধু তামান্না মৃত সন্তান প্রসব করেন।সম্প্রতি শওকত মিয়া বিদেশ যাওয়ার কথা বলে ৩ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবীতে তামান্নার উপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে। নির্যাতনের বিষয়টি তামান্নার পিতার বাড়িতে পৌছলে গত ৫ জানুয়ারি বুধবার বিকালে তার স্বজনরা আহত অবস্থায় তামান্নাকে ওই যৌতুকলোভী স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করেন। এঘটনায় বিচার চেয়ে ২০১৮ইং সনের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় আদালতে মামলা করেন তামান্না। আজ ১৮ মে বুধবার ওই মামলার প্রথম শুনানি দিন ধার্য্য করা হয়। এদিকে তারিখ অনুযায়ী আজমিরীগঞ্জ উপজেলা থেকে ১৮মে ২০২২ইং বুধবার সকালে বাদী তামান্না হবিগঞ্জ আদালতে আসে তার আপন মামাকে সাথে করে। উক্ত তারিখ অনুযায়ী আসামী শওকত মিয়া ও হাজীর হয় হবিগঞ্জ আদালতে। উভয় পক্ষ যার যার নিজস্ব এডভোকেট দ্ধারায় হবিগঞ্জ আদালতে হাজির হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট জাকির হুসেনের আদালতে আসামী শওকত মিয়ার পক্ষের এডভোকেট ফজলে এলাহী সেতু মিয়া বিষয়টি সমাধান করার স্বার্থে আসামীর জামিন মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন। পরে আদালত এই কথার উপরে আসামি শওকতের অস্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন। এব্যাপারে আসামি পক্ষের এডভোকেট ফজলে এলাহী সেতু মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার কোন সাড়া না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এব্যাপারে বাদী পক্ষের এডভোকেট রুহুল হাসান শরিফের সাথে এরিপোর্ট লেখাকালীন সময়ে তার ব্যাবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসবের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,আসামী তার স্রীর দায়ের করা মামলার সত্যতার বিষয়টি বুঝতে পেরে তার এডভোকেট দ্ধারায় সমাধান করার আশ্বস্ত করলে বিঞ্জ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে আসামীকে অস্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে আদালতের কাজ শেষ করে বাদী তামান্না তার মামাকে নিয়ে হবিগঞ্জ শহরে দুপুরের হাওয়া দাওয়া করে হবিগঞ্জ থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা রিজার্ভ করে বাড়ি ফেরার উদ্যেশে রওয়ানা হয়। কিন্তু হবিগঞ্জ থেকে বানিয়াচং সদরের ৪নং ইউনিয়নের কুন্ডরপাড় নামক ব্রীজটি পার হওয়ার পর বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টা ৪টার দিকে ২/৩জন লোক নিয়ে তাদের গাড়িটির গতিরোধ করে তার স্বামী আসামী শওকত মিয়া। এসময় শওকত তামান্নাকে অশ্রীল ভাষায় গালাগালি করে কোন কিছু ছিঁড়তে পেরেছিস মামলা টামলা করে। এখন যদি বিষয়টি যেভাবে বলি এভাবে চুপচাপ শেষ করে নিবে। এতে যদি আর সামনে এগোনোর জন্য বাড়াবাড়ি করিস তাহলে মনে রাখিস,এমনটা করবো তকে তরে পাবেতো দূরের কথা কোনদিন তর লাশটাও কিন্তু আর খুঁজে পাবেনা বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। চলে যাওয়ার সময় আবার এটাও বলে যায়,এই রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়াটাও যেন বুঝেশুনে করে। তারপর তারা ভয়ে সোজা বাড়িতে গিয়ে পৌঁছায়। এবং রাস্তার এই বিষয়টি তাদের পরিবারসহ আত্বীয় স্বজনকে অবগত করেন। এবং তারা এই ঘটনার জন্য আজ ১৯মে ২০২২ইং রোজ বৃহস্পতিবার বানিয়াচং থানায় তার সাথে লোকজন নিয়ে এসে জিডি করবেন বলে এই ঘটনাটি তার মুঠোফোন দিয়ে অবগত করে জানান। গৃহবধূ তামান্না আরও বলেন এঘটনার পর থেকে তিনি খুবই আতংকে রয়েছেন এবং তাকে প্রানে হত্যা করে লাশটি যদি গুম করে ফেলে এই ভয়ের মধ্যে রয়েছেন তিনি। এছাড়াও তিনি আসামী সম্পর্কে আরও বলেন,আসলে সে একটা প্রতারক,ভন্ড এজন্য আদালতে ঘটনাটি মিমাংসার মিথ্যা আশ্রয় নিয়ে জামিন পেয়ে উল্টো হুমকি প্রদান করে। এমনকি সে তাদের বাড়ির পাশেই একটি বিবাহিত মেয়েকে বিয়ে করে শওকত বর্তমানে তার বাড়িতে রেখে এই মেয়েকে নিয়ে সংসার করছে বলেও খবর পেয়েছেন এবং এই বিয়ের ঘটনার সত্যতাও পেয়েছেন বলেন। তিনি আসামী শওকতের বিয়ের বিষয় নিয়েও মামলা করবেন বলেও আদালতের সরাপন্ন হবেন। বর্তমানে আমি এসব ঘটনার পর থেকে মানবেতর জীবন যাপন করছি। তাই আমি ওই যৌতুকলোভী,সিটার,ভন্ড,প্রতারকের বিচার চাই।যাহাতে বিচার দেখে এসব অসহায় অবেলা নারীদের সাথে এমন ঘটনা করতে ভবিষ্যতে তার মতো পুরুষরা সাহস না পায়।
.png)
কোন মন্তব্য নেই