Header Ads

ad728
  • Breaking News

    ঠাকুরগাঁওয়ের আজ ৩ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত দিবস।


    দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে (৩ ডিসেম্বর) পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত হয় পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল, হরিপুর এবং বালিয়াডাঙ্গী সহ সমগ্র ঠাকুরগাঁও জেলা।

    এই দিনে ঠাকুরগাঁও মহকুমায় মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ লড়াই আর মুক্তিকামী জনগণের দুর্বার প্রতিরোধের মুখে পতন ঘটে পাকবাহিনীর।

    জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকসেনারা। তাদের প্রতিরোধ করতে সারাদেশসহ ঠাকুরগাঁওবাসী গড়ে তুলেছিল দুর্বার আন্দোলন।

    ঠাকুরগাঁও মহকুমা ছিল ৬ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত। কমান্ডার ছিলেন পাক বাহিনীর স্কোয়াড্রেন লিডার খাদেমুল বাশার। সমগ্র সেক্টরে ১ হাজার ১২০টির মত গেরিলা বেইস গড়ে তোলা হয়। ৮ মে’র আগ পর্যন্ত সুবেদার কাজিম উদ্দিনের দায়িত্বে ছিলেন। 

    ৯ মে ক্যাপ্টেন নজরুল, কাজিম উদ্দিনের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে স্কোয়াড্রেন সদরু উদ্দিন ও ১৭ জুলাই ক্যাপ্টেন শাহারিয়া সাব-সেক্টরের দায়িত্ব নেন। তবে এ জেলায় জনসাধারণের মধ্যে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন, সাবেক জেলা গভর্নর প্রয়াত ফজলুল করিম, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান বর্তমানে বর্ষিয়ান আকবর হোসেন প্রমুখ।

    ২১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হয় পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল ও হরিপুর সহ বালিয়াডাঙ্গী অঞ্চলে।

    ২৯ নভেম্বর এ মহকুমার পঞ্চগড় থানা প্রথম শত্রু মুক্ত হয়। এরপর পাকবাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়। তারা প্রবেশ করে ঠাকুরগাঁওয়ে।

    ৩০ নভেম্বর পাকসেনারা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভুল্লী ব্রিজ উড়িয়ে দেয়। তারা সালন্দর এলাকায় সব জায়গায় বিশেষ করে ইক্ষু খামারে মাইন পুতে রাখে। মিত্রবাহিনী ভুল্লী ব্রিজ সংস্কার করে ট্যাংক পারাপারের ব্যবস্থা করে।

    পহেলা ডিসেম্বর কমান্ডার মাহাবুব আলমের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ঠাকুরগাঁওয়ে ঢুকে। ২ ডিসেম্বর রাতে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রচণ্ড গোলাগুলি হয়। ওই রাতেই শত্রু বাহিনী ঠাকুরগাঁও থেকে পিছু হঁটে ২৫ মাইলে অবস্থান নেয়। পরে ৩ ডিসেম্বর বিজয়ের বেশে ঠাকুরগাঁওয়ে ঢুকে মুক্তিযোদ্ধারা। 

    পাকসেনাদের পতনের পর এ এলাকার সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ে মুক্তির উল্লাস। আনন্দ উদ্বেলিত কণ্ঠে ‘জয়বাংলা’ ধ্বনি আর হাতে প্রিয় স্বদেশের পতাকা নিয়ে ছুটোছুটি করতে থাকে তরুণ-যুবক সহ সব বয়সী বিজয়কামী৷ মানুষ।


    মোঃ লাতিফুর রহমান লিমন, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ

    কোন মন্তব্য নেই

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728